রাজার ভাগ্য

শহিদুল ইসলাম আকাশ 

ছেলেকে গল্প বলছি। প্রতিদিনই কোনো না কোনো গল্প বলতে হয় ওকে। সারাদিন ব্যস্ততায় থাকি বলে বাসায় আমাকে পেলে সেও হয়তো এই 'উছিলায়' বাবার সঙ্গ খুঁজে। মেয়েটা এখন বুঝে অনেককিছুই, ভাইয়ের এই ধরনের কাণ্ডে সে ঈর্ষান্বিত হয় বলে মনে হয় না।

কোনো দিন জীবজন্তুর গল্প তো কোনো কোনো দিন ভূতপ্রেতের গল্প বলে শুনাই ছেলেকে। আজ বলছিলাম রাজারানীর গল্প। গল্পের প্রতিটা বাক্য বলার শেষে তার প্রশ্নবাণে বিদ্ধও হতে হয়।

শুরুতেই বললাম, 'এক ছিলো রাজা।'
ছেলের প্রশ্ন: 'রাজা কী বাবা?'
বললাম, 'কী না, কে। রাজা হচ্ছে খুব ধনী একজন পুরুষ?'
ছেলে 'ধনী' কী তা জানতে চাইলো না, বললো, 'পুরুষ কী?'
বললাম, 'পুরুষ হলো ছেলে।'
ছেলে 'ওহ' বলে পরবর্তী গল্প শুনায় মনোযোগী হলো।

বললাম, 'তো সেই রাজার ছিলো চারটা রানী।'
এখানেও ছেলের ঔৎসুক্য, 'রানী মানে কী, বাবা?'
বললাম, 'রানী হচ্ছে রাজার বউ।'
ছেলের যথারীতি আবারও প্রশ্ন: 'বউ কী?'
কী বলবো ভাবতে ভাবতে বললাম, 'এই যেমন ধরো তোমার মা...'
ছেলের ঔৎসুক্য আরো যেন দ্বিগুণ বেড়ে গেলো, 'রাজার চারটা বউ!' 
বললাম, 'হ্যাঁ চারটা বউ।'
ছেলেটা আমার দিকে চোখ বড়বড় করে তাকিয়ে বললো, 'তাহলে তোমার বউ একটা কেন বাবা?' ছেলের এমন প্রশ্নে শব্দ করে হেসে উঠলাম আমি। 

পাশেই বসে আমার স্ত্রী এতোক্ষণ আমাদের কথা শুনছিলো। ছেলের এমন কথায় আমার হাসি দেখে হাসলো সেও। নিচু স্বরে তাকে বললাম, 'আহা, সেকালের রাজাদের মতো আমার ভাগ্যও যদি এমন সুপ্রসন্ন হতো!'   

Comments

Popular Posts