নির্বাচনী সংস্কৃতি
শহিদুল ইসলাম আকাশ
তালুকদার সাহেব আর চৌধুরী সাহেব প্রচারণায় বেরিয়েছেন। নির্বাচনে তাঁরা দু'জন যে শুধু আলাদা দু'টি দলের প্রার্থী তা নয়, আলাদা দু'টি জোটেরও। এখন তো জোটেরই যুগ, রাজনীতি কী অর্থনীতি কিংবা সমাজনীতি--সবখানেই।
পথে তাঁরা দু'জনের মুখোমুখি দেখা হয়ে গেলো। একজন আরেকজনকে বুকে লাগালেন। দু'জনের মুখই হাসিহাসি। তালুকদার সাহেব চৌধুরী সাহেবকে বললেন, 'কাছেই আমার একটা নির্বাচনী জনসভা আছে, আসুন না।' জবাবে চৌধুরী সাহেব তালুকদার সাহেবকে বললেন, 'অবশ্যই। চলুন। খানিক দূরে আমারও একটা জনসভা আছে, আপনাকেও যেতে হবে তাহলে।' তালুকদার সাহেবও সম্মতি জানালেন।
দু'জনই দু'জনের জনসভায় গেলেন। নিজের নিজের ইশতেহার বললেন, তুলে ধরলেন নিজেদের রাজনৈতিক যোগ্যতা ও দক্ষতাও। দুই জনসভার উপস্থিত নেতাকর্মী ও জনসাধারণের উদ্দেশে দু'জনেই কণ্ঠ মিলিয়ে বললেন, 'সহিংসতা নয়, প্রয়োজন পরমত সহিষ্ণুতা। নির্বাচনের পর যেই নির্বাচিত হোক, সবাই মিলে সেই নির্বাচিত প্রতিনিধিকে সহযোগিতা করতে হবে। নির্বাচন রাষ্ট্রপরিচালনার জন্য উপলক্ষ মাত্র, নয়তো সবাই-ই এই রাষ্ট্রের সমান মালিক। এই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকা উচিত না। এই প্রশ্নে সবারই ভূমিকা এক এবং অভিন্ন।'
সেই সাথে তারা দু'জনই পরস্পরের প্রশংসাও করলেন মন খুলে। সমবেত জনতার মুহুর্মুহু করতালি বাজতে লাগলো একটু পরপর।
দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দিনভর একসাথে প্রচারণা শেষে যারযার গন্তব্যে ফিরে যাবার আগে কোলাকুলি করলেন। পিঠ চাপড়ে পরস্পর পরস্পরের জন্য শুভকামনা করলেন।
চট করে ঘুমটা ভেঙে গেলো আমার। জ্বি, ঠিকই ধরেছেন, স্বপ্ন দেখছিলাম আমি। এই দেশে এমন নির্বাচনী সংস্কৃতি স্বপ্নেই তো সম্ভব কেবল।
তালুকদার সাহেব আর চৌধুরী সাহেব প্রচারণায় বেরিয়েছেন। নির্বাচনে তাঁরা দু'জন যে শুধু আলাদা দু'টি দলের প্রার্থী তা নয়, আলাদা দু'টি জোটেরও। এখন তো জোটেরই যুগ, রাজনীতি কী অর্থনীতি কিংবা সমাজনীতি--সবখানেই।
পথে তাঁরা দু'জনের মুখোমুখি দেখা হয়ে গেলো। একজন আরেকজনকে বুকে লাগালেন। দু'জনের মুখই হাসিহাসি। তালুকদার সাহেব চৌধুরী সাহেবকে বললেন, 'কাছেই আমার একটা নির্বাচনী জনসভা আছে, আসুন না।' জবাবে চৌধুরী সাহেব তালুকদার সাহেবকে বললেন, 'অবশ্যই। চলুন। খানিক দূরে আমারও একটা জনসভা আছে, আপনাকেও যেতে হবে তাহলে।' তালুকদার সাহেবও সম্মতি জানালেন।
দু'জনই দু'জনের জনসভায় গেলেন। নিজের নিজের ইশতেহার বললেন, তুলে ধরলেন নিজেদের রাজনৈতিক যোগ্যতা ও দক্ষতাও। দুই জনসভার উপস্থিত নেতাকর্মী ও জনসাধারণের উদ্দেশে দু'জনেই কণ্ঠ মিলিয়ে বললেন, 'সহিংসতা নয়, প্রয়োজন পরমত সহিষ্ণুতা। নির্বাচনের পর যেই নির্বাচিত হোক, সবাই মিলে সেই নির্বাচিত প্রতিনিধিকে সহযোগিতা করতে হবে। নির্বাচন রাষ্ট্রপরিচালনার জন্য উপলক্ষ মাত্র, নয়তো সবাই-ই এই রাষ্ট্রের সমান মালিক। এই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকা উচিত না। এই প্রশ্নে সবারই ভূমিকা এক এবং অভিন্ন।'
সেই সাথে তারা দু'জনই পরস্পরের প্রশংসাও করলেন মন খুলে। সমবেত জনতার মুহুর্মুহু করতালি বাজতে লাগলো একটু পরপর।
দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দিনভর একসাথে প্রচারণা শেষে যারযার গন্তব্যে ফিরে যাবার আগে কোলাকুলি করলেন। পিঠ চাপড়ে পরস্পর পরস্পরের জন্য শুভকামনা করলেন।
চট করে ঘুমটা ভেঙে গেলো আমার। জ্বি, ঠিকই ধরেছেন, স্বপ্ন দেখছিলাম আমি। এই দেশে এমন নির্বাচনী সংস্কৃতি স্বপ্নেই তো সম্ভব কেবল।

Comments
Post a Comment