ভুল
শহিদুল ইসলাম আকাশ
ঘরের কোণায় স্তূপ করা কাগজপত্র ঘাঁটাঘাঁটি করতে করতে বেশ পুরোনো আমার কবিতা লেখার খাতাটা খুঁজে পেলাম। অল্প বয়সে লেখা, কৈশোর পেরিয়ে যখন একটু একটু 'পুরুষ' হয়ে উঠছিলাম, তখনকার।
ভুল ছন্দ, ভুল শব্দচয়ন, উপস্থাপনের অদক্ষতার জন্য কোনো কোনো কবিতায় ভালো পটভূমি থাকার পরও কেমন যেন অপাঠ্য হয়ে আছে। কবিতাগুলো সংশোধনের উদ্যোগ নিলাম। প্রতিদিন নির্দিষ্ট একটা সময় এই খাতার কবিতাগুলো সংশোধনের জন্য বরাদ্দ রাখলাম। যৌবনের শুরুতে কেবলমাত্র আবেগকে নির্ভর করে লেখা আমার কবিতাগুলোকে সংশোধন করতে লাগলাম।
কয়েকটা কবিতা সংশোধন করার পর, কবিতাগুলো আমার নিজেরই বেশ পছন্দসই হয়েছে। অবহেলায় পড়ে থাকা আমার অনেক লেখার মতো এই কবিতাগুলোরও হয়তো মলাটের সংসারে সংসারী হওয়া হয়ে উঠবে না কখনো। না হোক, ক্ষতি কী? আমার মানসিক প্রশান্তির দামও কি কোনো অংশে কম?
আজ থেকে অনেক বছর পরে, জীবনের শেষবেলায়, আমার লেখাগুলো এমনি করে আবার হয়তো সংশোধন করতে বসা হবে কোনো একদিন--যদিবা ততোদিন বেঁচেবর্তে থাকি। পুরোনো লেখা আবার নতুন করে সাজাবো মনের সবটুকু আবীর মেখে। সেই লেখা নতুন অবয়ব দিতে পেরে পুলকিত হবো সেইদিনও। এক ধরনের ভালো লাগা আমাকে আচ্ছন্ন করবে তখনো জানি। কিন্তু...
কিন্তু একটা দীর্ঘশ্বাসও কি বেরিয়ে আসবে না নিজের গোপন গভীর থেকে তখন__যখন সায়াহ্ন এসে দাঁড়াবে জীবনেরই চৌকাঠে__যখন আমার ভেতরের অন্য কোনো আমি বলে বসবে, 'কবি, কবিতার খাতার ভুল কী অবলীলায় সংশোধন করো তুমি, জীবনের খাতার ভুলগুলোও যদি এমনিভাবে সংশোধন করতে পারতে!'
এমন কথায় আমার মনের ঘর হাহাকারে পূর্ণ হয়ে উঠলে, তখন আমাকে কে বুঝাবে যে, জীবনের খাতার ভুল সংশোধন করার ক্ষমতা কোনো মানুষকেই দেওয়া হয়নি। সেই ক্ষমতা নিয়ে খুব দূরে বসে থাকেন একজন। কিন্তু মানুষের জীবনের ভুল সংশোধনে তাঁরও কোনো আগ্রহ নেই এবং তিনি তা পছন্দও করেন না, হয়তো।
ঘরের কোণায় স্তূপ করা কাগজপত্র ঘাঁটাঘাঁটি করতে করতে বেশ পুরোনো আমার কবিতা লেখার খাতাটা খুঁজে পেলাম। অল্প বয়সে লেখা, কৈশোর পেরিয়ে যখন একটু একটু 'পুরুষ' হয়ে উঠছিলাম, তখনকার।
ভুল ছন্দ, ভুল শব্দচয়ন, উপস্থাপনের অদক্ষতার জন্য কোনো কোনো কবিতায় ভালো পটভূমি থাকার পরও কেমন যেন অপাঠ্য হয়ে আছে। কবিতাগুলো সংশোধনের উদ্যোগ নিলাম। প্রতিদিন নির্দিষ্ট একটা সময় এই খাতার কবিতাগুলো সংশোধনের জন্য বরাদ্দ রাখলাম। যৌবনের শুরুতে কেবলমাত্র আবেগকে নির্ভর করে লেখা আমার কবিতাগুলোকে সংশোধন করতে লাগলাম।
কয়েকটা কবিতা সংশোধন করার পর, কবিতাগুলো আমার নিজেরই বেশ পছন্দসই হয়েছে। অবহেলায় পড়ে থাকা আমার অনেক লেখার মতো এই কবিতাগুলোরও হয়তো মলাটের সংসারে সংসারী হওয়া হয়ে উঠবে না কখনো। না হোক, ক্ষতি কী? আমার মানসিক প্রশান্তির দামও কি কোনো অংশে কম?
আজ থেকে অনেক বছর পরে, জীবনের শেষবেলায়, আমার লেখাগুলো এমনি করে আবার হয়তো সংশোধন করতে বসা হবে কোনো একদিন--যদিবা ততোদিন বেঁচেবর্তে থাকি। পুরোনো লেখা আবার নতুন করে সাজাবো মনের সবটুকু আবীর মেখে। সেই লেখা নতুন অবয়ব দিতে পেরে পুলকিত হবো সেইদিনও। এক ধরনের ভালো লাগা আমাকে আচ্ছন্ন করবে তখনো জানি। কিন্তু...
কিন্তু একটা দীর্ঘশ্বাসও কি বেরিয়ে আসবে না নিজের গোপন গভীর থেকে তখন__যখন সায়াহ্ন এসে দাঁড়াবে জীবনেরই চৌকাঠে__যখন আমার ভেতরের অন্য কোনো আমি বলে বসবে, 'কবি, কবিতার খাতার ভুল কী অবলীলায় সংশোধন করো তুমি, জীবনের খাতার ভুলগুলোও যদি এমনিভাবে সংশোধন করতে পারতে!'
এমন কথায় আমার মনের ঘর হাহাকারে পূর্ণ হয়ে উঠলে, তখন আমাকে কে বুঝাবে যে, জীবনের খাতার ভুল সংশোধন করার ক্ষমতা কোনো মানুষকেই দেওয়া হয়নি। সেই ক্ষমতা নিয়ে খুব দূরে বসে থাকেন একজন। কিন্তু মানুষের জীবনের ভুল সংশোধনে তাঁরও কোনো আগ্রহ নেই এবং তিনি তা পছন্দও করেন না, হয়তো।

Comments
Post a Comment