পাত্তা

শহিদুল ইসলাম আকাশ

   আজ বিকেলের দিকের কথা। অক্সিজেন মোড়ে দাঁড়িয়ে আছি, পাশের গ্যাসপাম্পে আমার রিজার্ভ করা সিএনজি অটোরিকশাটা গ্যাসের জন্য লাইনে দাঁড় করে আছে ড্রাইভার। এমন সময় হঠাৎ কোত্থেকে এক পাগলের আবির্ভাব হলো আমার সামনে। উদোম গা, বেসামাল লুঙ্গিটাই কোনো মতে কোমরে গিঁট দেওয়া আছে। মাথায় লম্বা চুল, কালো শরীরটাতে ধুলোময়লায় একাকার। বয়সটা চল্লিশের মতো হবে বলে মনে হলো। পাগলটা কিছুই বললো না, সামনে এসে দাঁড়িয়ে আছে চুপচাপ। পাগলের প্রতি আগ্রহের কোনো কারণ নেই, তবু আমি আগ বাড়িয়ে জিজ্ঞেস করলাম, 'কেমন আছো?' লেখালেখির নেশা আছে বলে হয়তো সবকিছুতে এমন আগ্রহ আমার এবং সবকিছুতেই এমন কৌতূহলী আমি। 

পাগল মানুষটা আমার প্রশ্নের উত্তর দিলো না, আমার দিকে তাকিয়ে বললো, 'আপনি মানুষ ভালা। সবাই আমারে ভাবে পাগল, আসলে আমি পাগল না, এইটা আপনি বুঝছেন।' শুনে মনে মনে বললাম, সব পাগলেরই ধারণা সে পাগল নয়, এও এর ব্যতিক্রম হয় কী করে!

বললাম, 'তাহলে তুমি কে?' শব্দ করে হাহাহাহা করে হেসে উঠলো সে। বললো, 'আমি মানুষ।' 

বলতে হলো, 'আপনাকে দেখে পাগলই তো মনে হয়। পাগল না বলছেন কেন?'

আবারও শব্দ করা হাসি তার, বললো, 'পাগল সাইজা থাকি। পাগলের উপকার আছে, কেউ পাত্তা দেয় না। এই দুনিয়ায় যে যতো বেশি পাত্তা পায়, তার ততো বেশি জ্বালা।' দার্শনিক গোছের কথাবার্তা। দর্শনশাস্ত্রে আমার একটু অনীহা আছে, তাই এই পর্যায়ে তাকে এড়িয়ে যেতে পা বাড়ালাম সামনে। সে আবার নতুন কী দর্শন কপচায় বসে কে জানে!

এড়িয়ে এসে গাড়িতে উঠে বসলাম। ততোক্ষণে আমার গাড়িরও গ্যাস নেওয়া হয়ে গেছে। গাড়ি চলছে, আমি গাড়ির বাইরে চোখ রেখে পাগলটার কথা ভাবতে লাগলাম আবার। এড়িয়ে যদিও আসি না কেন, মানুষটা মন্দও তো কিছু বলেনি। আসলেই তো, এই দুনিয়ায় যে যতো বেশি পাত্তা পায়, তার ততোই বেশি জ্বালা। একদম!

Comments

Popular Posts