ধ্বংস অথবা পরাজয়

শহিদুল ইসলাম আকাশ


ফ্রেন্ডলিস্টে যদিও সবাই বাংলাদেশি, কিন্তু তাঁদের মধ্যে অনেকেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাস করেন। বসবাস না-করলেও, আবার অনেকে প্রায়ই বিভিন্ন দেশে ঘুরতে বা বেড়াতে চলে যান। দেশের বাইরে কোথাও যাবার সুযোগ আমার হয়নি, তাই 'বিদেশ' বললেই আমার ভেতর এক ধরনের আগ্রহ জন্ম নেয়। এসব বন্ধুদের অনেকের কাছ থেকে মেসেঞ্জারে বিভিন্ন দেশের নানান ছবি ও ভিডিও চেয়ে নিই। অনেকেই টাইমলাইনে নিয়মিত এসব ভিনদেশের ছবি পোস্ট দেন, কেউ কেউ লাইভেও এসে দেখান। আজ একজন স্পেনের বার্সেলোনার প্রায় ৮০০ মিটার উচ্চতার দৃষ্টিনন্দন এক পর্বতের চূড়া থেকে 'লাইভ' করেছিলেন, আগ্রহ নিয়ে পুরোটাই দেখেছি। দেখে অভিভূত হয়েছি যথারীতি।

একটু আগে কিউবায় অবস্থানরত এক বাংলাদেশির সাথে চ্যাটে কথা হচ্ছিলো। তাঁকে বললাম, 'স্যান সানফ্রান্সিসকো দ্যা পাওলো আপনার থেকে কতো দূর?' আমার কথা শুনে তিনি বিস্ময় নিয়ে জানতে চাইলেন, 'আপনি কি কখনো কিউবায় এসেছিলেন?' বললাম, 'না। একজন বিখ্যাত লেখকের লেখায় এই শহর প্রায়ই ঘুরেফিরে আসতো। তাই জেনেছি।'

তিনি বললেন, 'ওহ তাই বলুন।' তারপর জানালেন তিনিও এই শহরেই থাকেন। বললাম, 'ফিনসা ভিগিয়া নামের খামার বাড়িতে গিয়েছেন কখনো?' এবার তিনি নিশ্চিত হলেন, বললেন, 'ওহ আপনি বিখ্যাত লেখক আর্নেস্ট হেমিংওয়ের কথা বলছেন তো? হেমিংওয়ের স্মৃতি ধরে রাখতে কিউবা সরকার ওটাকে যাদুঘরের মর্যাদা দিয়েছে।' বলেই কয়েক মুহূর্তের মধ্যে তিনি 'ফিনসা ভিগিয়া' নামের সেই খামার বাড়িটির অনেকগুলো ছবি দিলেন মেসেঞ্জারে আমাকে।

হেমিংয়ের লেখার টেবিল, অসংখ্য বই, নানা আসবাবের ছবির সাথে দরজা জানালার ছবি পর্যন্ত দিতে ভুললেন না।

আমি উৎসুক হয়ে ছবিগুলো দেখছি। দেখতে দেখতে মনে হলো, জানালার শার্সির ভেতর দিয়ে আমি যেন ছুয়ে দিচ্ছি কিংবদন্তী লেখক স্বয়ং আর্নেস্ট হেমিংওয়েকে। যেন আমাকেও দেখছেন 'দি ওল্ড ম্যান এন্ড দ্য সী'র লেখক, আর মুখে তাঁর চিরচেনা হাসি রেখে বলছেন, 'মানুষ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে কিন্তু মানুষকে কখনো পরাজিত হতে নেই।'

Comments

Popular Posts