জটিল অংক
শহিদুল ইসলাম আকাশ
আমার এক বন্ধু। তুখোড় ব্যাংকার। হিসেবনিকেশে তুমুল পারদর্শী। নাম করা ব্যাংকে চাকরি তার। চাকরির মাত্র কয়েক বছরেই কয়েকটা প্রমোশনের সিঁড়ি পেরিয়ে গেছে সে।
সেদিন তার অফিসে তার সাথে কথা হচ্ছিলো। কথায় কথায় সে জানালো, 'এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের কোনো কিছুই অংকের বাইরে নয়। এক চুল পরিমাণও না।'
বললাম, 'যেমন...?'
সে বললো, 'এই সৃষ্টিজগতের কথাই ধর, এর পিছনেও আছে জটিল অংক। সে অংক মিলাতে মানুষের সে কী প্রচেষ্টা যুগে যুগে! কখনো মিলছে তো কখনো মিলছে না। এক ধরণের বিভ্রম নিয়ে অংকের হিসাব মিলাবার মধ্যে দিয়ে এগিয়ে যেতে হচ্ছে মানুষকে।'
আমার প্রশ্ন, 'পুরোপুরি কি সেই হিসাব মিলবে একদিন? কোনোদিন?'
তার হাসিমাখা উত্তর, 'বললাম না, এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের কোনো কিছুই অংকের বাইরে নয়! অংকই যেহেতু, সেই হিসেবও একদিন অবশ্যই মিলবে।'
এইটুকু বলে সে চায়ের অর্ডার দিলো। মিনিটখানেকের মধ্যে চা এসে গেলো। সঙ্গে বিস্কিট। চা-বিস্কিট খেতে খেতে তাকে বললাম, 'সত্যিই কি এই পৃথিবীর সব অংকই হিসেবনিকেশে চলে বা মিলে?'
সে একটু অবাক হলো যেন, বললো, 'নয়তো কী!'
এরপর সে আবারও কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলো, তাকে থামিয়ে তার কাছে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলাম, 'সত্যিই কি? এমনকি ভালোবাসাও...?'
আমার সে একাউন্টেন্ট বন্ধু কোনো জবাব দিলো না। হঠাৎ চুপচাপ হয়ে গেলো।
তাকে বললাম, 'না; ভালোবাসা কখনোই না। যদিও এও এক ধরণের অংকই, কিন্তু এ এক গভীরতর বোধেরও। অংক হলেও, ভালোবাসা কখনোই হিসেব-নির্ভর নয়। তাই তো ভালোবাসার চেয়ে জটিল কোনো অংক পৃথিবীতে আর নেই। এই অংকের হিসেব মিলাবে, সে সাধ্য কার!'
আমার কথা শুনে সে আমার দিকে এমনভাবে তাকালো, যার অর্থ, আমার কথাই ঠিক আবার ঠিক ঠিকও না।
আমার এক বন্ধু। তুখোড় ব্যাংকার। হিসেবনিকেশে তুমুল পারদর্শী। নাম করা ব্যাংকে চাকরি তার। চাকরির মাত্র কয়েক বছরেই কয়েকটা প্রমোশনের সিঁড়ি পেরিয়ে গেছে সে।
সেদিন তার অফিসে তার সাথে কথা হচ্ছিলো। কথায় কথায় সে জানালো, 'এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের কোনো কিছুই অংকের বাইরে নয়। এক চুল পরিমাণও না।'
বললাম, 'যেমন...?'
সে বললো, 'এই সৃষ্টিজগতের কথাই ধর, এর পিছনেও আছে জটিল অংক। সে অংক মিলাতে মানুষের সে কী প্রচেষ্টা যুগে যুগে! কখনো মিলছে তো কখনো মিলছে না। এক ধরণের বিভ্রম নিয়ে অংকের হিসাব মিলাবার মধ্যে দিয়ে এগিয়ে যেতে হচ্ছে মানুষকে।'
আমার প্রশ্ন, 'পুরোপুরি কি সেই হিসাব মিলবে একদিন? কোনোদিন?'
তার হাসিমাখা উত্তর, 'বললাম না, এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের কোনো কিছুই অংকের বাইরে নয়! অংকই যেহেতু, সেই হিসেবও একদিন অবশ্যই মিলবে।'
এইটুকু বলে সে চায়ের অর্ডার দিলো। মিনিটখানেকের মধ্যে চা এসে গেলো। সঙ্গে বিস্কিট। চা-বিস্কিট খেতে খেতে তাকে বললাম, 'সত্যিই কি এই পৃথিবীর সব অংকই হিসেবনিকেশে চলে বা মিলে?'
সে একটু অবাক হলো যেন, বললো, 'নয়তো কী!'
এরপর সে আবারও কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলো, তাকে থামিয়ে তার কাছে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলাম, 'সত্যিই কি? এমনকি ভালোবাসাও...?'
আমার সে একাউন্টেন্ট বন্ধু কোনো জবাব দিলো না। হঠাৎ চুপচাপ হয়ে গেলো।
তাকে বললাম, 'না; ভালোবাসা কখনোই না। যদিও এও এক ধরণের অংকই, কিন্তু এ এক গভীরতর বোধেরও। অংক হলেও, ভালোবাসা কখনোই হিসেব-নির্ভর নয়। তাই তো ভালোবাসার চেয়ে জটিল কোনো অংক পৃথিবীতে আর নেই। এই অংকের হিসেব মিলাবে, সে সাধ্য কার!'
আমার কথা শুনে সে আমার দিকে এমনভাবে তাকালো, যার অর্থ, আমার কথাই ঠিক আবার ঠিক ঠিকও না।

Comments
Post a Comment