নেহা কক্কর, তোমাকে
শহিদুল ইসলাম আকাশ
সম্রাট বাবরের এক গল্প মনে পড়ে। সম্রাটকে একবার এক গায়িকা গান শুনিয়ে মুগ্ধ করেছিলেন। এতোটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন তিনি যে, গায়িকার কাছে জানতে চেয়েছিলেন, 'কী চাও তুমি? নিঃসংকোচে জানাও।' আসহারি নাম্নী গায়িকাটি বলেছিলেন, 'প্রিয় সম্রাট, আমি আপনার সাহচর্য বৈ আর কিছুই চাই না।'
সম্রাট বাবর সে গায়িকার সমওজনের স্বর্ণমুদ্রা দেওয়ার আদেশ দিলেন। গায়িকা আসহারিকে তাঁর সমওজনের স্বর্ণমুদ্রা (মতান্তরে তাম্রমুদ্রা) দেওয়া হলো। সম্রাট বাবরের পুত্র সম্রাট হুমায়ূনও পরবর্তীতে আসহারিকে সমওজনের স্বর্ণমুদ্রা উপহার দেন।
সম্রাট বাবরপুত্র সম্রাট হুমায়ূনেরও এমন আরেকটি চমকপ্রদ গল্প আছে। সম্রাট হুমায়ূনের শত্রু বাহাদুর শাহের প্রিয় গায়ক ছিলেন মঞ্চু। বাহাদুর শাহ যেখানেই যেতেন মঞ্চুকে সঙ্গে নিয়ে যেতেন।
যুদ্ধের ময়দানে বন্দী হলেন বাহাদুর শাহ। সম্রাট হুমায়ূনের জয় আসন্ন। এরমধ্যে গান গাইতে গাইতে এই মঞ্চু সম্রাট হুমায়ূনের সামনে এসে দাঁড়ালেন। পরম শত্রু বাহাদুর শাহর মিত্র মঞ্চুর গান শুনে সম্রাট হুমায়ূন অভিভূত হয়ে গেলেন। মঞ্চুকে বললেন, 'তুমি কি জানো, এই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিল্পী তুমি?' যথারীতি সম্রাট হুমায়ূন এও বললেন যে, 'বলো কী চাও তুমি?'
গায়ক মঞ্চু তিনটি জিনিস চাইলেন। তারমধ্যে ছিলো বন্দী বাহাদুর শাহর কাছে যাওয়ার অনুমতিও। হুমায়ূন মঞ্চুর তিনটি চাওয়াই পূরণ করলেন। তাই দেখে হুমায়ূনের প্রধান উজিরের বিস্ময়ের অন্ত ছিলো না, 'সম্রাট, এ কী করছেন আপনি?' সম্রাট হুমায়ূন হেসে বললেন, 'এই গায়ক যদি আমার সাম্রাজ্যও চেয়ে বসতো, শত্রু হওয়া সত্ত্বেও বিনাবাক্য ব্যয়ে আমি তাও দিয়ে দিতাম।'
মোগল সাম্রাজ্যের রাজাধিরাজদের মতো আমার কোনো সাম্রাজ্য নেই। আমি নিতান্ত দীন একজন মানুষ। দীন হলেও আমার মনে যে সাম্রাজ্য আছে, তা মোগলদের চেয়ে কোনো অংশে কম কিছু নয়। হোক-না তা মনে মনেই।
নেহার গান শুনতে শুনতে সেই সাম্রাজ্যে আমার আদেশ করে বলতে ইচ্ছে হয়, 'কলমচি, ফরমান জারি করুন। নেহা নামের এই শিল্পীকে তার সমওজনের স্বর্ণমুদ্রা দেওয়া হোক এবং সে যদি চায় তো পুরো সাম্রাজ্যটাই তার হাতে তুলে দেওয়া হোক।'
সব ইচ্ছের দাম নেই। নাইবা থাক দাম। শুধু ইচ্ছে থাকাটাই কি কম দামী!


Comments
Post a Comment