ক্লান্তিকর কুচকাওয়াজ

শহিদুল ইসলাম আকাশ

সারাদিনই ব্যস্ত থাকি। রাতে বাসায় ফিরে খাওয়াদাওয়া সেরে কিছুক্ষণ বইটই পড়ি, টুকটাক কিছু লিখিটিখিও। 

একটু আগে খাওয়াদাওয়া সেরে যেই একটা বই নিয়ে পড়বো ভেবে বসলাম, দেখি আমার আড়াই বছর বয়সী পুত্র জেগে উঠে আছে। উঠেই কান্না, আমার কাছে আসবে। আমি পড়ার জন্য বুকশেল্ফ থেকে নেওয়া বইটা আবার শেল্ফে রেখে ছেলেকে কোলে নিলাম। 

কোলে নেওয়ার পর এবার ছোট শাহজাদার অন্য আবদার, সে হাঁটবে। ঘরের ফ্লোরে তাকে নামিয়ে দিলাম।

বেশ উৎসাহ নিয়ে হাঁটছে সে। যতোই আমি তাকে কোলে নিতে চাই, ভাঙাভাঙা স্বরে সে বলে যায়, 'আরো হাঁটবো।'

আমার পুত্র হাঁটছে। আমি তার দিকে তাকিয়ে দেখছি আর ভাবছি, একটা জীবনে কতো কতো পথ হাঁটতে হয় মানুষকে! পাড়ি দিতে হয় কতো কতো পথ!

আজ এই মুহূর্তে, ছোট্ট পুত্র আমার, যে ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে হাঁটাহাঁটি করছে__জীবনের পথে হাঁটতে হাঁটতে একদিন সেও কি হাঁপিয়ে উঠবে না? এই উৎসাহ সেদিন কি আর থাকবে? তখন ভাববে কি সেও, আর কতোদিন চলবে পথ? এই পথ? একই জীবনের এই ধুলোমলিন পথ?

'লেফট-রাইট' 'লেফট-রাইট' করতে করতে একদিন সেও কি বুঝবে যে, এ এক বড় ক্লান্তিকর কুচকাওয়াজ__এই জীবন!

Comments