তালগাছ কার

শহিদুল ইসলাম আকাশ 

তালগাছ কার? খালেকের নাকি মালেকের? খালেক ও মালেক আপন দুই ভাই। গাছের মালিকানা বিষয়ে দীর্ঘদিনের এই বিরোধ নিরসনে শালিসি বৈঠকে বসেছেন গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

খালেক বললেন, 'বিচার মানি কিন্তু তালগাছটা আমার চাই।' মালেকেরও দাবি এই একই, 'বিচার মানি কিন্তু তালগাছটা আমার চাই।'

দুই ভাইয়ের এমন কথায় বিব্রত হলেন শালিসি বৈঠকে উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। পৈতৃক ভিটায় গাছটা যেহেতু, সেহেতু খালেক ও মালেক দু'জনেরই গাছটার দাবি যৌক্তিক কিন্তু গাছও তো একটাই, দুই জনকেই কী করে দেওয়া যায়! 

উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে একজন বললেন, 'খালেককে গাছটা দেওয়া যায়। এর জন্য মালেককে অন্য কোনোভাবে সুবিধা দেওয়া যেতে পারে।

আরেকজন বললেন, 'একইভাবে মালেককেও তো দেওয়া যায়, এই কারণে খালেককে অন্য কোনোভাবে সুবিধা দেওয়া যেতে পারে।'

বৈঠকে শালিসানগণের কোনো সিদ্ধান্তই কার্যকর হয় না। খালেক ও মালেক দুই জনের দাবিরই পরিবর্তন হয় না, 'তালগাছ আমারই চাই।'

বৈঠক পণ্ড হয়ে গেলো। তালগাছের মালিকানা দাবিতে দুই ভাইয়ের বিবাদ হাতাহাতির পর্যায় পর্যন্ত গড়ালো। হুমকিধমকি পরস্পরের মধ্যে, 'তোকে দেখে নেবো।' তালগাছের লোভে না জানে কে কখন কাকে খুন করে বসে!

সবাই চলে গেলেন, কিন্তু তখনো বসে রইলেন গণ্যমান্য ব্যক্তিদের একজন। বৈঠকে তিনি চুপচাপ ছিলেন। সবাই চলে যাবার পর মাথা তুলে তিনি তালগাছটার দিকে তাকালেন। দেখলেন তালগাছটাতে নীড় বেঁধে আছে অসংখ্য বাবুই পাখি। কিচিরমিচির করে বিরামহীন ডেকে যাচ্ছে পাখিগুলো। কী যে সুমধুর সেই ডাক!

গণ্যমান্য ব্যক্তিটি তখন মনে মনে ভাবতে লাগলেন, এই তালগাছটার আসল মালিক  কে--খালেক নাকি মালেক? তালগাছটাতে কি এই বাবুই পাখিগুলোর কোনোই দাবি নেই!

পুনশ্চ:
আমার এই গল্পে আমি তালগাছের মালিকানার কথা বলতে চেয়েছি, উৎসাহী পাঠক ভেবে বসবেন না যে, রূপকার্থে রাষ্ট্রের মালিকানার কথা বোঝাতে চেয়েছি কিনা। এমনটা ভাবলেও কোনো সমস্যা নেই অবশ্য, আমরা সাধারণ মানুষ তো সেই বাবুই পাখিই--আমাদের এই কিচিরমিচির ডাকাডাকি খালেক ও মালেকদের শুনার আগ্রহ থাকার কথাও না।   

Comments

Popular Posts