চুরি
শহিদুল ইসলাম আকাশ
মাত্রই সাত বছর বয়সের শিশু। রেনু নাম। কয়েকদিন আগে এই শিশুকন্যাটাকে ৩৫ বছর বয়সী এক নরপিশাচ ধর্ষণ করেছে।
এটুকু পড়ে আপনারা হয়তো ভাবছেন, যেহেতু আমি মাঝেমাঝে টুকটাক লেখালেখি করি, হয়তো নতুন কোনো গল্প ফেঁদে বসেছি। ব্যাপারটা আদতেই তা নয়, সত্য ঘটনা।
বনানীর ঘটনা নিয়ে সারাদেশ উত্তাল ছিলো, এখনো আছে। কিন্তু এই বাচ্চাশিশুটার উপর পাশবিক নির্যাতনের ঘটনা স্থানীয় দুয়েকটি সংবাদমাধ্যম ছাড়া কোথাও নজরে আসেনি। কেন?
আমার একই উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নে ঝড়ঝড়ি গ্রামে এই ন্যক্কারজনক ঘটনাটা ঘটে। সকালে থানা থেকে এক পুলিশ কর্মকর্তা আমার এলাকায় এলে, তার হাতে এই ঘটনার মামলার ফাইল চোখে পড়ে আমার।
পুলিশ কর্মকর্তার কথায় মনটা ভরে গেলো। তিনি বললেন, 'এই ধরণের মামলা থেকে আমি একটা টাকাও নিই না। আসামীকে ধরে আদালতে দিয়েছি। আসামী তার অপরাধ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। আদালত আসামীকে কারাগারে পাঠিয়েছে।'
কিন্তু মেয়েশিশুটার বর্তমান অবস্থার কথা জানতে চাইতে গিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাটি যখন জানালেন, 'মেয়েশিশুটার গোপনাঙ্গে ছিঁড়ে গেছে, ক্ষত স্থানে সেলাই করতে হয়েছে, এখনো সে চিকিৎসাধীন। এজন্য ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণে মেডিকেল টেস্ট করা হয়নি'__তখন আশাহত হতেও সময় লাগলো না।
আমি কিছুটা অবাক হলাম, বললাম, আসামী যেখানে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে, ধর্ষণের ফলে মেয়েশিশুটার গোপনাঙ্গ ছিঁড়ে গেছে এবং অপারেশন করতে হয়েছে__সেখানে মেডিকেল টেস্টটা করার কি আর কোনো প্রয়োজন থাকে?
তিনি বললেন, 'আইন তো আর আমার কথায় চলে না ভাই।' তাঁর অসহায় উক্তি।
সেই ধর্ষিত শিশুকন্যার পাসপোর্ট সাইজের একটি ছবি দেখেছি, কোমলমতি চেহারাটা এখনো ভুলতে পারছি না। বারবার মনের পর্দায় ভেসে ভেসে উঠছে। এ কোন জমাটবাঁধা অন্ধকার নেমে আসছে মর্ত্যে! এর শেষ কোথায়!
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে এই মুহূর্তে কী করছে বাচ্চামেয়েটা? গোপনের অসহনীয় ব্যথাকেও উপেক্ষা করে সে কি তার প্রিয় খেলনার পুতুল বুকে জড়িয়ে ধরে বসে আছে, পাছে তার প্রিয় পুতুলটা কোনো চোর এসে চুরি করে নিয়ে যায়__যখন তার চুরি যাওয়ার বাকি নেই আর কিছুই, বুকের মধ্যে গর্বের দারুণ এক স্নিগ্ধ সরলতার বোধই চুরি হয়ে গেছে__তাবৎ পৃথিবীর কোনো পাহারাদারই যে চুরি ঠেকাতে পারেনি!
মাত্রই সাত বছর বয়সের শিশু। রেনু নাম। কয়েকদিন আগে এই শিশুকন্যাটাকে ৩৫ বছর বয়সী এক নরপিশাচ ধর্ষণ করেছে।
এটুকু পড়ে আপনারা হয়তো ভাবছেন, যেহেতু আমি মাঝেমাঝে টুকটাক লেখালেখি করি, হয়তো নতুন কোনো গল্প ফেঁদে বসেছি। ব্যাপারটা আদতেই তা নয়, সত্য ঘটনা।
বনানীর ঘটনা নিয়ে সারাদেশ উত্তাল ছিলো, এখনো আছে। কিন্তু এই বাচ্চাশিশুটার উপর পাশবিক নির্যাতনের ঘটনা স্থানীয় দুয়েকটি সংবাদমাধ্যম ছাড়া কোথাও নজরে আসেনি। কেন?
আমার একই উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নে ঝড়ঝড়ি গ্রামে এই ন্যক্কারজনক ঘটনাটা ঘটে। সকালে থানা থেকে এক পুলিশ কর্মকর্তা আমার এলাকায় এলে, তার হাতে এই ঘটনার মামলার ফাইল চোখে পড়ে আমার।
পুলিশ কর্মকর্তার কথায় মনটা ভরে গেলো। তিনি বললেন, 'এই ধরণের মামলা থেকে আমি একটা টাকাও নিই না। আসামীকে ধরে আদালতে দিয়েছি। আসামী তার অপরাধ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। আদালত আসামীকে কারাগারে পাঠিয়েছে।'
কিন্তু মেয়েশিশুটার বর্তমান অবস্থার কথা জানতে চাইতে গিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাটি যখন জানালেন, 'মেয়েশিশুটার গোপনাঙ্গে ছিঁড়ে গেছে, ক্ষত স্থানে সেলাই করতে হয়েছে, এখনো সে চিকিৎসাধীন। এজন্য ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণে মেডিকেল টেস্ট করা হয়নি'__তখন আশাহত হতেও সময় লাগলো না।
আমি কিছুটা অবাক হলাম, বললাম, আসামী যেখানে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে, ধর্ষণের ফলে মেয়েশিশুটার গোপনাঙ্গ ছিঁড়ে গেছে এবং অপারেশন করতে হয়েছে__সেখানে মেডিকেল টেস্টটা করার কি আর কোনো প্রয়োজন থাকে?
তিনি বললেন, 'আইন তো আর আমার কথায় চলে না ভাই।' তাঁর অসহায় উক্তি।
সেই ধর্ষিত শিশুকন্যার পাসপোর্ট সাইজের একটি ছবি দেখেছি, কোমলমতি চেহারাটা এখনো ভুলতে পারছি না। বারবার মনের পর্দায় ভেসে ভেসে উঠছে। এ কোন জমাটবাঁধা অন্ধকার নেমে আসছে মর্ত্যে! এর শেষ কোথায়!
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে এই মুহূর্তে কী করছে বাচ্চামেয়েটা? গোপনের অসহনীয় ব্যথাকেও উপেক্ষা করে সে কি তার প্রিয় খেলনার পুতুল বুকে জড়িয়ে ধরে বসে আছে, পাছে তার প্রিয় পুতুলটা কোনো চোর এসে চুরি করে নিয়ে যায়__যখন তার চুরি যাওয়ার বাকি নেই আর কিছুই, বুকের মধ্যে গর্বের দারুণ এক স্নিগ্ধ সরলতার বোধই চুরি হয়ে গেছে__তাবৎ পৃথিবীর কোনো পাহারাদারই যে চুরি ঠেকাতে পারেনি!

Comments
Post a Comment