আসল সত্ত্বা

শহিদুল ইসলাম আকাশ

দলের নেতাকর্মিদের বিদায় দিয়ে ঘুমুতে যেতে যেতে এমপি সাহেবের রাত দু'টো বেজে গেলো। বিছানায় শুয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে রাজ্যের ঘুম নেমে এলো এমপি সাহেবের চোখে। ঘুমিয়ে গেলেন তিনি। হঠাৎ দরজায় বেল পড়ার শব্দ। অনিচ্ছাসত্ত্বেও উঠতে হলো এমপি সাহেবকে।

গেলোবারও এমপি ছিলেন তিনি। মাঝে একবার ছাড়া এর আগে আরো দুইবার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। এবারও এমপি। সংসদ অধিবেশন ভেঙে দেওয়া হলেও, এখনো তো এমপিই বলা যায়। তারউপর পরবর্তী নির্বাচনের জন্য এবারও দল থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। গেলোবারের নির্বাচনের মতো দলের কিছু নেতাকর্মী এবারও বিরোধিতা করলেও, তিনি আশাবাদী, তাঁরাও দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশ মান্য করে শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহ থামাবে তাঁর জন্য কাজ করবে এবং আবারও তাঁকে এমপি বানাবে।

মধ্যরাতে দরজা খুলে এমপি সাহেব অবাক। দেখলেন, এই রাত দুপুরে জীর্ণশীর্ণ পোশাকের একজন মাথা নিচু করে তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ভিক্ষুক কি? সিকিউরিটির দায়িত্বে থাকা লোকগুলোর উপর রেগে গেলেন এমপি সাহেব। চিৎকার করে সিকিউরিটিদের ডাকতে লাগলেন। আশ্চর্য, কেউ এলো না!

রাগান্বিত এমপি সাহেব ভিক্ষুকের মতো দেখতে লোকটাকে বললেন, 'এতো রাতে কেন এসেছো তুমি?' লোকটা বললো, 'তোমাকে একটা কথা বলার জন্য এসেছি।' এমপি সাহেব দাঁত খিঁচে লোকটাকে তুইতুকারি করতে লাগলেন, বললেন, 'এতো বড় সাহস তোর, আমাকে 'তুমি' সম্বোধন করিস! তুই জানিস, আমি কে?'

এই পর্যায়ে এতোক্ষণ মাথা নিচু করে থাকা লোকটা মাথা তুলে এমপি সাহেবের দিকে তাকালেন। লোকটার মুখে এক ধরণের আলো পড়লো। স্পষ্টত হলো মুখ। লোকটার মুখের দিকে তাকিয়ে শরীর কাঁপতে লাগলো এমপি সাহেবের, এ কি, এ যে এমপি সাহেব নিজেই! কাঁপতে কাঁপতে বললেন, 'তু-তুই কে!' 

লোকটা বললো, 'আমি তোমার আসল তুমিই, একজন ভিক্ষুক। প্রতি পাঁচ বছর পরপর ভিক্ষে করে বেড়াই মানুষের দরজায় দরজায়। তুমি নিজেকে চিনতে এতো কষ্ট হলো তোমার!'

এমপি সাহেব গোঙানির মতো শব্দ করতে লাগলেন। একটু পর তিনি নিশ্চিত হলেন যে, এতোক্ষণ যা ঘটে গেলো তা বাস্তবে নয়, স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি। বিছানায় নড়েচড়ে বসলেন।

ঘরের চারপাশে একবার চোখ ঘুরিয়ে আবার ঘুমিয়ে গেলেন এমপি সাহেব। নিজের ভেতরে গোপন থাকা আসল সত্ত্বাটা দেখতে পেয়েও, এমপি সাহেবকে খুব একটা বিচলিত মনে হলো না।   

Comments

Popular Posts