আনন্দের হাসি
শহিদুল ইসলাম আকাশ
আজাদ মাতুব্বর চেয়ারে বসে আছে। নিচে মাটিতে বসেছে রমিজ। আজাদ মাতুব্বর বললো, 'তোমারে ক্যান ডাইকা আনছি তুমি তা জানো। শুনো, যুদ্ধের ময়দানে এতো বিবেচনা করলে অয় না। সবই আল্লাহপাকের ইচ্ছা। পাকিস্তানি মিলিটারি আমগো জন্যই বাঙালিদের খতম করবার কাজ করতাছে। তুমি তো শান্তি কমিটির লোক, তাগো মনরক্ষা করা তোমার দায়িত্ব। বলো দায়িত্ব না? তোমারে যা বলা হইছে, কাইল দিনের মইধ্যে তা করবা। বুঝছো তো?'
রমিজ মাটিতে বসে নিচের দিকে তাকিয়ে থাকে, আজাদ মাতুব্বরের কথার জবাব দেয় না কোনো। ক'দিন ধরেই এই আবদারটা করে যাচ্ছে আজাদ মাতুব্বর।
কয়েক মাস আগে শান্তি কমিটিতে যোগ দিয়েছে রমিজ। আজাদ মাতুব্বর এলাকার প্রভাবশালী মানুষ। পাকিস্তানি মিলিটারিরা তাকে বিশেষ সমাদর করে। পাকিস্তানিদের পরামর্শে শান্তি কমিটির মতো আরো কী কী সব কমিটিটমিটি করেছে আজাদ মাতুব্বর। আজাদ মাতুব্বর যখন রমিজকে শান্তি কমিটিতে তাকে রাখার কথা বললো, তাই রমিজেরও তাতে না বলার মতো সাহস ছিলো না। শুধু 'জ্বে আইচ্ছা' বলা ছাড়া। শুনে আজাদ মাতুব্বর বললো, 'বাঙালি মোনাফেকের দল, এদের কঠিন শাস্তি দেওন দরকার। হাতে একটা বাঁশের লাঠি পর্যন্ত নাই, কয় কিনা যুদ্ধ করবো! জয় বাংলাও বলে আবার, ফুঃ। জয় বাংলা তোদের ... ঢুকিয়ে দেবো। শালা!' বলে 'থু' করে একদলা থুথু ফেললো।
এই কয়েক মাস রমিজ গ্রামের নানা জায়গায় ঘুরে ঘুরে কারা কারা মুক্তিযোদ্ধা, সেই খবর আজাদ মাতুব্বরকে এনে দিয়েছে। আজাদ মাতুব্বর পাকিস্তানি মিলিটারিদের নিয়ে তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। সেইসব পরিবারের সদস্যদের উপর চালিয়েছে অমানুষিক নির্যাতন।
গত ক'দিন আগে আজাদ মাতুব্বর রমিজকে বললো, 'তোমার ঘরে তোমার বিবাহযোগ্য কন্যা আছে, তা তো জানতাম না। ক্যাপ্টেন এমদাদ তোমার মাইয়ারে নাকি দেখছে। হের পছন্দ হইছে। মাইয়াটারে যে একদিনের লাইগা ক্যাপ্টেন সাহেবের কাছে পাঠান লাগবো। উপায় নাই কোনো।' শুনে যারপরনাই অবাক হলো রমিজ। এ কেমন কথা। হ্যাঁ বা না কিছুই বলেনি রমিজ। এই অবস্থায় কী করবে, সেই পথ খুঁজে যাচ্ছিলো শুধু। পাকিস্তানিদের নির্মমতা কী কঠিন, তা রমিজ জেনে গেছে এতোদিনে। এই ক'দিনে আজাদ মাতুব্বর এই এক কথা বারবার বলেই যাচ্ছে।
আজকেও এইজন্যই ডেকেছে রমিজকে। আজাদ মাতুব্বর পুনরায় বললো, 'চুপচাপ হয়ে আছো ক্যান। কাইল দিনে মাইয়ারে ক্যাপ্টেন সাহেবের কাছে নিয়া যাইবা। একটা দিনেরই তো ব্যাপার। আবার নিইয়াই তো আইতে পারবা।'
রমিজ উঠে দাঁড়ালো। কিছু একটা বলতে চাইলো, আবার বললো না। আজাদ মাতুব্বর বললো, 'এহন যাও। কাইল মাইয়াটারে ক্যাম্পে দিইয়া আসতে ভুলবা না।'
সেদিনই রাতের অন্ধকারে স্ত্রী ও একমাত্র মেয়েকে নিয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায় রমিজ। পাকিস্তানিদের উপর প্রবল ঘৃণা রমিজের মনে দলা পাকাতে থাকলো ক্রমশ। স্ত্রী ও মেয়েকে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে রেখে একটা সময় মুক্তিযুদ্ধে শামিল হয়ে যায় রমিজ। পাকিস্তানিদের এই দেশ থেকে তাড়াতেই হবে, সাথে সাথে আজাদ মাতুব্বরের মতো ঘৃণ্য লোকগুলোকেও। প্রতিজ্ঞা করে রমিজ।
রমিজের প্রতিজ্ঞা পূরণ হয়। পাকিস্তানিদের এই দেশ থেকে বিতাড়িত করার যুদ্ধে বাঙালির বিজয় হয়। সেই সাথে এক রাতে সঙ্গী মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে আজাদ মাতুব্বরের বাড়িতে যায় রমিজ। আজাদ মাতুব্বরকে ডেকে 'তোমার পাকিস্তান তোমার ... ঢুকিয়ে দিতে আইছি। আসো...?' বলে খুব কাছ থেকে গুলি করে আজাদ মাতুব্বরের বুকে। মুহূর্তেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আজাদ মাতুব্বর। এতোটা আনন্দ এক জীবনে আর কখনোই পায়নি রমিজ। আনন্দে শব্দ করে হাসতে লাগলো সে।
আজাদ মাতুব্বর চেয়ারে বসে আছে। নিচে মাটিতে বসেছে রমিজ। আজাদ মাতুব্বর বললো, 'তোমারে ক্যান ডাইকা আনছি তুমি তা জানো। শুনো, যুদ্ধের ময়দানে এতো বিবেচনা করলে অয় না। সবই আল্লাহপাকের ইচ্ছা। পাকিস্তানি মিলিটারি আমগো জন্যই বাঙালিদের খতম করবার কাজ করতাছে। তুমি তো শান্তি কমিটির লোক, তাগো মনরক্ষা করা তোমার দায়িত্ব। বলো দায়িত্ব না? তোমারে যা বলা হইছে, কাইল দিনের মইধ্যে তা করবা। বুঝছো তো?'
রমিজ মাটিতে বসে নিচের দিকে তাকিয়ে থাকে, আজাদ মাতুব্বরের কথার জবাব দেয় না কোনো। ক'দিন ধরেই এই আবদারটা করে যাচ্ছে আজাদ মাতুব্বর।
কয়েক মাস আগে শান্তি কমিটিতে যোগ দিয়েছে রমিজ। আজাদ মাতুব্বর এলাকার প্রভাবশালী মানুষ। পাকিস্তানি মিলিটারিরা তাকে বিশেষ সমাদর করে। পাকিস্তানিদের পরামর্শে শান্তি কমিটির মতো আরো কী কী সব কমিটিটমিটি করেছে আজাদ মাতুব্বর। আজাদ মাতুব্বর যখন রমিজকে শান্তি কমিটিতে তাকে রাখার কথা বললো, তাই রমিজেরও তাতে না বলার মতো সাহস ছিলো না। শুধু 'জ্বে আইচ্ছা' বলা ছাড়া। শুনে আজাদ মাতুব্বর বললো, 'বাঙালি মোনাফেকের দল, এদের কঠিন শাস্তি দেওন দরকার। হাতে একটা বাঁশের লাঠি পর্যন্ত নাই, কয় কিনা যুদ্ধ করবো! জয় বাংলাও বলে আবার, ফুঃ। জয় বাংলা তোদের ... ঢুকিয়ে দেবো। শালা!' বলে 'থু' করে একদলা থুথু ফেললো।
এই কয়েক মাস রমিজ গ্রামের নানা জায়গায় ঘুরে ঘুরে কারা কারা মুক্তিযোদ্ধা, সেই খবর আজাদ মাতুব্বরকে এনে দিয়েছে। আজাদ মাতুব্বর পাকিস্তানি মিলিটারিদের নিয়ে তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। সেইসব পরিবারের সদস্যদের উপর চালিয়েছে অমানুষিক নির্যাতন।
গত ক'দিন আগে আজাদ মাতুব্বর রমিজকে বললো, 'তোমার ঘরে তোমার বিবাহযোগ্য কন্যা আছে, তা তো জানতাম না। ক্যাপ্টেন এমদাদ তোমার মাইয়ারে নাকি দেখছে। হের পছন্দ হইছে। মাইয়াটারে যে একদিনের লাইগা ক্যাপ্টেন সাহেবের কাছে পাঠান লাগবো। উপায় নাই কোনো।' শুনে যারপরনাই অবাক হলো রমিজ। এ কেমন কথা। হ্যাঁ বা না কিছুই বলেনি রমিজ। এই অবস্থায় কী করবে, সেই পথ খুঁজে যাচ্ছিলো শুধু। পাকিস্তানিদের নির্মমতা কী কঠিন, তা রমিজ জেনে গেছে এতোদিনে। এই ক'দিনে আজাদ মাতুব্বর এই এক কথা বারবার বলেই যাচ্ছে।
আজকেও এইজন্যই ডেকেছে রমিজকে। আজাদ মাতুব্বর পুনরায় বললো, 'চুপচাপ হয়ে আছো ক্যান। কাইল দিনে মাইয়ারে ক্যাপ্টেন সাহেবের কাছে নিয়া যাইবা। একটা দিনেরই তো ব্যাপার। আবার নিইয়াই তো আইতে পারবা।'
রমিজ উঠে দাঁড়ালো। কিছু একটা বলতে চাইলো, আবার বললো না। আজাদ মাতুব্বর বললো, 'এহন যাও। কাইল মাইয়াটারে ক্যাম্পে দিইয়া আসতে ভুলবা না।'
সেদিনই রাতের অন্ধকারে স্ত্রী ও একমাত্র মেয়েকে নিয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায় রমিজ। পাকিস্তানিদের উপর প্রবল ঘৃণা রমিজের মনে দলা পাকাতে থাকলো ক্রমশ। স্ত্রী ও মেয়েকে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে রেখে একটা সময় মুক্তিযুদ্ধে শামিল হয়ে যায় রমিজ। পাকিস্তানিদের এই দেশ থেকে তাড়াতেই হবে, সাথে সাথে আজাদ মাতুব্বরের মতো ঘৃণ্য লোকগুলোকেও। প্রতিজ্ঞা করে রমিজ।
রমিজের প্রতিজ্ঞা পূরণ হয়। পাকিস্তানিদের এই দেশ থেকে বিতাড়িত করার যুদ্ধে বাঙালির বিজয় হয়। সেই সাথে এক রাতে সঙ্গী মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে আজাদ মাতুব্বরের বাড়িতে যায় রমিজ। আজাদ মাতুব্বরকে ডেকে 'তোমার পাকিস্তান তোমার ... ঢুকিয়ে দিতে আইছি। আসো...?' বলে খুব কাছ থেকে গুলি করে আজাদ মাতুব্বরের বুকে। মুহূর্তেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আজাদ মাতুব্বর। এতোটা আনন্দ এক জীবনে আর কখনোই পায়নি রমিজ। আনন্দে শব্দ করে হাসতে লাগলো সে।

Comments
Post a Comment