নিশ্চিত-অনিশ্চিত
শহিদুল ইসলাম আকাশ
শবযাত্রা দেখে রাস্তার এক পাশে বাইকটা থামিয়ে দাঁড়িয়ে গেলাম। শবযাত্রা চলে যাক আগে৷
আমি যেখানটায় আছি, এই অঞ্চলে আমার আত্মীয়স্বজন কেউ নেই, তাই শবযাত্রায় অংশ নেওয়া সব মুখই আমার অচেনা। যার মৃত্যু হয়েছে, তাকেও আমার চেনার কথা না। তবু মৃত মানুষটার প্রতি আমার আগ্রহ জন্মালো।
শবযাত্রার পেছনের একজনকে ডেকে থামালাম, জানতে চাইলাম, কার মৃত্যু হয়েছে? তিনি বললেন, 'এই এলাকারই এক ছেলের?' আমি বিস্ময় নিয়ে বললাম, 'ছেলে! বয়স কতো হয়েছিলো তার?' লোকটি বললেন, 'ত্রিশের মতো হবে।' বলেই তিনি দ্রুত হেঁটে শবযাত্রায় মিশে গেলেন আবার। এই অল্পবয়সী ছেলেটার কীভাবে মৃত্যু হলো জানা হলো না আমার।
শবযাত্রা রাস্তা পার হয়ে গেলে আমি বাইকের এস্কেলেটরে হাত রাখলাম। কিছুদূর এগিয়ে এসে ইচ্ছে হলো আবার পিছনে যাই, জানাজায় অংশ নিই। করলামও তাই। জানাজার নামাজ আদায় করলাম। নামাজের আগে একবার মৃতের মুখটাও দেখে নিলাম। কী যে মায়াময় একটি মুখ!
ছেলেটা আমার চেয়ে অন্তত সাত আট বছরের ছোট হবে। তার থেকে সাত আটটি বছর এরমধ্যেই বেশি বাঁচা হয়েছে আমার। ছেলেটার চেয়েও আরো আটটি বছর বেশি নক্ষত্র ও নারীর সান্নিধ্য পেয়েছি, জোছনায় রোদ্দুরে হেঁটে বেড়িয়েছি; স্নাত হয়েছি মাতাল বৃষ্টিজলে, গায়ে মেখেছি বাউরি বাতাস। তবু সেই মুখ দেখে নিজেকে একবার মৃত ছেলেটার জায়গায় দেখতে গিয়ে আঁতকে উঠতে হলো। এতো তাড়াতাড়ি মৃত্যু এসে ডাক দেবে, কোনো মানে হয়!
বলা হয়, এই জগতে কিছুই নিশ্চিত নয়, একমাত্র মৃত্যু ছাড়া। কিন্তু সেই নিশ্চয়তা একটা সুনির্দিষ্ট বয়সে এলে কীইবা এমন ক্ষতি হতো!
হায়, সৃষ্টিকর্তা যেমন মহানুভব, আবার ঠিক ততোটাই নিষ্ঠুরও!


Comments
Post a Comment