ছখেরাত
শহিদুল ইসলাম আকাশ
মানসিক প্রস্তুতি বলতে তা ছিলো এমন--মৃত্যুপথযাত্রীকে তওবা পড়ানো হতো, পুকুরের অথবা নদীর ঘাট ছেড়ে দেওয়া হতো। খাঁচার পাখি উড়িয়ে দেওয়া হতো আদিগন্ত আকাশে। ঘনিষ্ঠজনরা মৃত্যুপথযাত্রীর মুখে জল পান করে দেওয়া ছিলো নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়। এটাকে পরম সৌভাগ্যও ধরে নেওয়া হতো। মৃত্যুর আগে আগে জেয়াফত অথবা কুলখানির ঘটনাও তখন দেখেছি অনেক। জীবিত মানুষটা তাঁর নিজের জেয়াফত অথবা কুলখানি শুধু দেখছেন না, আয়েশ করে খেতেও দেখেছি কিছু।
স্ট্রোক, হার্টএ্যাটাক, ক্যান্সারটেন্সার কিংবা সড়ক অথবা অন্য যে কোনো ধরনের দুর্ঘটনার উচ্চারণও তখন শোনা যেতো খুব কমই। তখন মানুষের প্রাত্যহিক কাজ থেকে শুরু করে খাওয়াদাওয়া, এমনকি ঘুম পর্যন্ত--সবই ছিলো যথাযথ। বেশিরভাগ মৃত্যুও তখন বয়সের হিসেবেই হতো।
এখনকার বেশিরভাগ মৃত্যু কেমন জানি, এক মুহূর্ত আগেও কারো বুঝার সুযোগ থাকে না যে, কয়েক পলকের মধ্যেই মানুষটা মরে যাবে! শিশু, কিশোর, যুবক পর্যন্তও।
পরম্পরা মেনে জন্ম হয়, কিন্তু মৃত্যুতে আর সেই সিস্টেম নেই জানি। কে ছোট কে বড়, কার আগে কার মৃত্যু হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা থাকে না। কিন্তু তা এতোটাই! মৃত্যুর জন্য মানসিক প্রস্তুতির সময়টাও এখন আর জোটে না। প্রয়োজনের মধ্যেও পড়ে না।
ভুল বললাম হয়তো। প্রয়োজন নেই, তাও হয়তো ঠিক নয়। আগের মতো আয়োজন করে প্রস্তুতির ব্যাপারটার সুযোগ না-থাকলেও, এখন প্রত্যেকেরই আরো বেশি করে, প্রতি মুহূর্তে, মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকা চাই। জেনে রাখা চাই যে, এখন আমাদের সবার প্রত্যেকটা মুহূর্তই 'ছখেরাত'। এই এখন ঘন্টা পড়লো বলে, জীবনের কাছ থেকে ছুটি নেওয়ার--চিরতরে; চিরতরে!


Comments
Post a Comment