তারার খুঁজে
শহিদুল ইসলাম আকাশ
রাতের খাওয়া সেরে বাইরে একটু হাঁটতে বেরিয়েছি। মাঝেমধ্যে এমন বের হই। বাড়ির পাশে রাস্তায় কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করি। রাতেরবেলা রাস্তায় দিনের মতো ব্যস্ততা থাকে না, তখন রাস্তা যেন ভাদ্র মাসের শান্ত কোনো নদী। যে নদীর ভাঙন নেই, চরও পড়ে না কোথাও।
নির্জন রাস্তায় হাঁটছি। মাথার উপর এক আকাশ তারা আর এখানেওখানে ঝাঁক বেঁধে উড়তে থাকা নীল জোনাকিই সঙ্গী শুধু।। হাঁটতে আমার ভালো লাগছে। হাঁটছি আর আমার পরবর্তী লেখাটা মস্তিষ্কে সাজিয়ে নিতে চেষ্টা করছি।
রাস্তার পাশে এক জায়গায় নির্মাণশ্রমিকদের মেস আছে একটা। দেশের কয়েক জেলার কিছু নির্মাণশ্রমিক এখানে থাকে। হাঁটতে হাঁটতে সেখানে এসে দাঁড়ালাম। ভাবলাম, তারা নিশ্চয় জেগে আছে এখনো, একবার তাদের মেসে ঢুঁ দিলে কেমন হয়!
এই মেসে জয়নাল নামে পয়ঁত্রিশের মতো বয়সের একজন শ্রমিক আছে আমার পরিচিত। সে মাঝেমাঝে আমার কাছে আসে। কোত্থেকে সে খবর পেয়েছে আমি লিখিটিখি। তাকে নিয়ে কিছু একটা লেখার আবদার থাকে প্রতিবার। জয়নাল আছে কিনা দেখে নেওয়া যায়, যদি থাকে তাহলে তার সাথে কথা বলবো কিছুক্ষণ।
মেসের দরজায় এসে দাঁড়াতেই, আমাকে দেখে সবাই সালাম দিলো। খাওয়াদাওয়া সেরে তারা হিসেব নিয়ে বসেছে। মেসে সবাই আছে, কিন্তু শুধু জয়নালকেই দেখা যাচ্ছে না কোথাও। কোথায় গেছে সে?
জয়নালের কথা জিজ্ঞেস করলাম তাদের কাছে। জানালো, সন্ধ্যার পর থেকেই সে মেসের পিছনে মাঠে একা একা বসে আছে। ভাতও খায়নি। তার নাকি খেতে ইচ্ছে করছে না আজ।
আমি জয়নালের সাথে কথা বলার জন্য মাঠের দিকে এগোলাম।
জয়নাল সাত বছর আগে তার প্রতিবেশী এক মেয়েকে ভালোবেসে বিয়ে করে। তাহমিনা নাম মেয়েটার। ভালোবেসে জয়নাল তাকে 'মিনা' বলে ডাকে। খুব ছোট থাকতেই বাবা-মাকে হারায় জয়নাল। বিয়ের পর মিনাকে পেয়ে তার আনন্দের সীমা রইলো না। মিনাও জয়নালকে পাগলের মতো ভালোবাসে।
কিন্তু বিয়ের মাত্র এক বছরের মাথায় মিনার দুরারোগ্য রোগ ধরা পড়ে, ক্যান্সার! এর এক বছর পরেই মিনার মৃত্যু হয়। মিনার চিকিৎসার জন্য জয়নাল চেষ্টা কম করেনি, বাপদাদার ভিটেমাটিও বিক্রি করে দেয় সে। নিঃসঙ্গতার সাথে জয়নালের জীবনে যোগ হলো নিঃস্বতাও। মিনার মৃত্যু হয়েছে পাঁচ বছর হয়, জয়নাল তবু মিনার জন্য ব্যাকুল এখনো। জয়নালের সাথে কথা বলতে গেলে তার এই ব্যাকুলতা লক্ষ করি আমি। মিনার মৃত্যুর পর আর বিয়েথা করেনি সে।
আমি মাঠে বসে থাকা জয়নালের পাশে গিয়ে বসলাম। বললাম, 'জয়নাল, এতো রাতে এখানে বসে আছো কেন? তুমি নাকি আজ কিছু খাওওনি?'
আমার কথার জবাব দিলো না সে। প্রসঙ্গ পাল্টে বললো, 'আজ কয় তারিখ জানেন?' আমি বললাম, 'হুম। ১৪ মে।'
জয়নাল চুপচাপ। খানিক পর সে বললো, 'আজ আমার আর মিনার বিয়ের দিন। সাত বছর আগে আজকের দিনে আমাদের বিয়ে হয়েছিলো।'
বলেই আকাশের দিকে তাকালো জয়নাল। সে আর কিছু বলছে না। আমিও বলছি না কিছু। জয়নাল কি কাঁদছে!
জয়নালের চোখ এখনো আকাশের দিকেই। যেন অসংখ্য তারার মধ্য থেকে হঠাৎ একটি তারা কোথায় জানি হারিয়ে গেছে, হারিয়ে যাওয়া সেই তারাটি তার যেন খুব প্রয়োজন! সেই তারাটা যেন তাকে খুঁজে বের করতেই হবে!
রাতের খাওয়া সেরে বাইরে একটু হাঁটতে বেরিয়েছি। মাঝেমধ্যে এমন বের হই। বাড়ির পাশে রাস্তায় কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করি। রাতেরবেলা রাস্তায় দিনের মতো ব্যস্ততা থাকে না, তখন রাস্তা যেন ভাদ্র মাসের শান্ত কোনো নদী। যে নদীর ভাঙন নেই, চরও পড়ে না কোথাও।
নির্জন রাস্তায় হাঁটছি। মাথার উপর এক আকাশ তারা আর এখানেওখানে ঝাঁক বেঁধে উড়তে থাকা নীল জোনাকিই সঙ্গী শুধু।। হাঁটতে আমার ভালো লাগছে। হাঁটছি আর আমার পরবর্তী লেখাটা মস্তিষ্কে সাজিয়ে নিতে চেষ্টা করছি।
রাস্তার পাশে এক জায়গায় নির্মাণশ্রমিকদের মেস আছে একটা। দেশের কয়েক জেলার কিছু নির্মাণশ্রমিক এখানে থাকে। হাঁটতে হাঁটতে সেখানে এসে দাঁড়ালাম। ভাবলাম, তারা নিশ্চয় জেগে আছে এখনো, একবার তাদের মেসে ঢুঁ দিলে কেমন হয়!
এই মেসে জয়নাল নামে পয়ঁত্রিশের মতো বয়সের একজন শ্রমিক আছে আমার পরিচিত। সে মাঝেমাঝে আমার কাছে আসে। কোত্থেকে সে খবর পেয়েছে আমি লিখিটিখি। তাকে নিয়ে কিছু একটা লেখার আবদার থাকে প্রতিবার। জয়নাল আছে কিনা দেখে নেওয়া যায়, যদি থাকে তাহলে তার সাথে কথা বলবো কিছুক্ষণ।
মেসের দরজায় এসে দাঁড়াতেই, আমাকে দেখে সবাই সালাম দিলো। খাওয়াদাওয়া সেরে তারা হিসেব নিয়ে বসেছে। মেসে সবাই আছে, কিন্তু শুধু জয়নালকেই দেখা যাচ্ছে না কোথাও। কোথায় গেছে সে?
জয়নালের কথা জিজ্ঞেস করলাম তাদের কাছে। জানালো, সন্ধ্যার পর থেকেই সে মেসের পিছনে মাঠে একা একা বসে আছে। ভাতও খায়নি। তার নাকি খেতে ইচ্ছে করছে না আজ।
আমি জয়নালের সাথে কথা বলার জন্য মাঠের দিকে এগোলাম।
জয়নাল সাত বছর আগে তার প্রতিবেশী এক মেয়েকে ভালোবেসে বিয়ে করে। তাহমিনা নাম মেয়েটার। ভালোবেসে জয়নাল তাকে 'মিনা' বলে ডাকে। খুব ছোট থাকতেই বাবা-মাকে হারায় জয়নাল। বিয়ের পর মিনাকে পেয়ে তার আনন্দের সীমা রইলো না। মিনাও জয়নালকে পাগলের মতো ভালোবাসে।
কিন্তু বিয়ের মাত্র এক বছরের মাথায় মিনার দুরারোগ্য রোগ ধরা পড়ে, ক্যান্সার! এর এক বছর পরেই মিনার মৃত্যু হয়। মিনার চিকিৎসার জন্য জয়নাল চেষ্টা কম করেনি, বাপদাদার ভিটেমাটিও বিক্রি করে দেয় সে। নিঃসঙ্গতার সাথে জয়নালের জীবনে যোগ হলো নিঃস্বতাও। মিনার মৃত্যু হয়েছে পাঁচ বছর হয়, জয়নাল তবু মিনার জন্য ব্যাকুল এখনো। জয়নালের সাথে কথা বলতে গেলে তার এই ব্যাকুলতা লক্ষ করি আমি। মিনার মৃত্যুর পর আর বিয়েথা করেনি সে।
আমি মাঠে বসে থাকা জয়নালের পাশে গিয়ে বসলাম। বললাম, 'জয়নাল, এতো রাতে এখানে বসে আছো কেন? তুমি নাকি আজ কিছু খাওওনি?'
আমার কথার জবাব দিলো না সে। প্রসঙ্গ পাল্টে বললো, 'আজ কয় তারিখ জানেন?' আমি বললাম, 'হুম। ১৪ মে।'
জয়নাল চুপচাপ। খানিক পর সে বললো, 'আজ আমার আর মিনার বিয়ের দিন। সাত বছর আগে আজকের দিনে আমাদের বিয়ে হয়েছিলো।'
বলেই আকাশের দিকে তাকালো জয়নাল। সে আর কিছু বলছে না। আমিও বলছি না কিছু। জয়নাল কি কাঁদছে!
জয়নালের চোখ এখনো আকাশের দিকেই। যেন অসংখ্য তারার মধ্য থেকে হঠাৎ একটি তারা কোথায় জানি হারিয়ে গেছে, হারিয়ে যাওয়া সেই তারাটি তার যেন খুব প্রয়োজন! সেই তারাটা যেন তাকে খুঁজে বের করতেই হবে!


Comments
Post a Comment