অমল ভালোবাসা
শহিদুল ইসলাম আকাশ
যদিও এমন রাত করে বাসায় ফেরা নতুন নয় আমার, কাজের চাপে এমন হরহামেশাই হয়। তবু আমার স্ত্রী নিশ্চয় দরজা ধরে দাঁড়িয়ে আছে, অপেক্ষায় আছে আমার, কখন ফিরবো আমি! আমার মেয়ে আর ছেলেটাও নিশ্চয় না-ঘুমিয়ে আছে, বাবা আসলে ঘুমাবে বলে।
মাথার উপর বিশাল একটা চাঁদ, তার চারপাশে অনন্ত নক্ষত্রবীথি দুলে দুলে উঠে। কী যে এক সম্মোহনী আলো--আকাশের গায়ে যেমন, মাটির পৃথিবীতেও।
এমন রূপসী রাতে, মহুয়ার সুগন্ধি পথে, বাইক চালাই আর মনের মধ্যে অগণন ভাবনারাশি ভীড় করতে থাকে। কতো কতো বিচিত্র সব ভাবনা!
বাসায় ফিরে দেখবো, আমার স্ত্রী না-খেয়ে বসে আছে, আমার সাথে বসে খাবে বলে। কিংবা বাইরে খেয়ে এসেছি বললে, সে নিজেও না-খেয়ে ঘুমাবে। ছোট ছোট বাচ্চা ছেলেমেয়ে দু'টো আমাকে দেখে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে যাবে, বাবা ফিরেছে বলে।
এমন পাগলামির কোনো মানে হয়! তবু এই পাগলামি আমাকে রোজ রোজ দেখতে হয়। প্রতিবার দেখে আমি মনে মনে হাসি।
'শেষ পর্যন্ত যে যার নীড়ে ফিরে যায়'র মতো বাসায় ফিরলাম অবশেষে। দেখি, ছেলেমেয়ে দু'টো জেগে এখনো। আমাকে দেখে হেসে তারা শুতে গেলো। আমি বাইরে একটা দাওয়াত খেয়ে এসেছি, কিন্তু সেই কথা স্ত্রীকে বললাম না আর। বললে, সেও না-খেয়ে ঘুমাতে যাবে।
সে বললো, 'এসো, খাবার খেয়ে নিই।' আমিও চুপচাপ বসে গেলাম টেবিলে। কারো অমল ভালোবাসাকে কখনো উপেক্ষা করতে নেই, যদি করা হয়, তাহলে এই একরত্তি জীবনে আর থাকলোই-বা কী!

Comments
Post a Comment